বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার 23, May 2019 - ৯, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বাংলা - হিজরী

রিজার্ভ চুরির তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে লুকোচুরি

প্রকাশিত ০৪ অগাস্ট, ২০১৬ ১৫:২১:৪৯

বাংলাদেশ ব্যাংকের চাঞ্চল্যকর রিজার্ভ চুরির তদন্ত রিপোর্ট নিয়ে চলছে লুকোচুরি। সরকার গঠিত ড. ফরাসউদ্দিন কমিটি অর্থমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট পেশের পর কেটে গেছে ৬৫ দিন। কিন্তু এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ প্রতিবেদনটি আলোর মুখ দেখেনি। কমিটি অনেক পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ করলেও তার একটিও বাস্তবায়িত হয়নি। শুধু তাই নয়, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকও এ রিপোর্ট নিয়ে আছে অন্ধকারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে গত ২ মাসেও বাংলাদেশ ব্যাংকে রিপোর্ট পাঠানো হয়নি। এছাড়া তদন্তে ৭ জন কর্মকর্তার যোগসাজশ ও দায়িত্বে অবহেলার কথা সুনির্দিষ্টভাবে বলা হলেও তাদের বিরুদ্ধে ন্যূনতম পদক্ষেপও নেয়া হয়নি। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত তদন্ত রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা বা ব্যাংক সংস্কারের কোনো দিকনির্দেশনা যায়নি। ফলে সুপারিশ বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির একজন সদস্য ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, আমরা যখন জমা দিই তখন অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন এটা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে। সাংবাদিকদেরও একাধিকবার একই কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু এই প্রতিবেদন আদৌ আলোর মুখ দেখবে কিনা তা নিয়ে আমরা সন্দিহান। মনে হচ্ছে, সরকার কোনো কারণে আমাদের এই প্রতিবেদন আমলে নেয়নি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা মঙ্গলবার যুগান্তরকে জানান, রিজার্ভ চুরি সংক্রান্ত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এসে পৌঁছেনি। এ রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যাংকের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও তদন্ত কমিটির প্রধান ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এর আগে যুগান্তরকে বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িতদের দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ভাগে ৫ জন। এরা অদক্ষ, অথর্ব ও কাজে গাফিলতি করেছে। আর দ্বিতীয় ভাগে ২ জন। এদের অপরাধ গুরুতর। এই দু’জনের বিষয়ে আরও গভীরভাবে তদন্ত করা দরকার। বিশেষ করে ‘ক্রিমিনাল ল’ অনুযায়ী তদন্ত জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি।

অবশ্য রিজার্ভ চুরির তদন্ত কমিটির তিন সদস্যের একজন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাদ দাস বুধবার অবসরে গেছেন। শেষ কার্যদিবসে রিপোর্ট প্রকাশ না করার সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, এটি সরকারের বিষয়। আমাদের ওপর তদন্তের দায়িত্ব অর্পণ হয়েছে। তা যথাযথ পালন করেছি।

তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, রিপোর্টটি এখনও পড়া হয়নি। বাজেট নিয়ে ব্যস্ত থাকব। তবে এ রিপোর্টটি আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করা হবে।

বাজেট ঘোষণার আগে সাংবাদিকদের তিনি দ্বিতীয় দফায় বলেন, বাজেটের পর তা প্রকাশ করা হবে। তৃতীয় দফায় তিনি বলেন, তদন্ত রিপোর্ট রোজার ঈদের পর প্রকাশ করা হবে। সর্বশেষ ঈদ পুনর্মিলনীর দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ড. ফরাস উদ্দিনের তদন্ত রিপোর্ট শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। রিপোর্টের সুপারিশ অনুযায়ী কিছু পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, ৩০ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত রিপোর্ট অর্থমন্ত্রীর কাছে জমা দেন ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন। ১৫ মার্চ বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্বেক এই গভর্নরকে প্রধান করে সরকার তিন সদস্যের কমিটি করে। কমিটি প্রথম ৩০ দিনে একটি অন্তর্বর্তীকালীন এবং ৭৫ দিনের মাথায় পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জমা দেয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করার আগে সমন্বিতভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে বৈঠক করার একটি পরিকল্পনা রয়েছে। ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে কি হবে না। কারণ তদন্ত রিপোর্ট কূটনৈতিক চ্যানেলে ফিলিপাইনের আদালতেও পাঠানোর প্রয়োজন হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বুধবার যুগান্তরকে বলেন, তদন্ত রিপোর্টের ভেতর কি আছে তা জানি না। তবে অর্থমন্ত্রী নিজে বলেছেন, এ রিপোর্ট প্রকাশ করবেন। আমি মনে করি অর্থমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, তবে যে কোনো তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা এবং না করা এটি পুরোপুরি সরকারের এখতিয়ার।


footer logo

 ঢাকা অফিস
GA-99/3  Pragati sharani
Gulshan Dhaka 1212
ই-মেইল:- info@bdnationalnews.com

.