বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার 23, May 2019 - ৯, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বাংলা - হিজরী

অসহায় এবং পথ আশ্রিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের দাবী

প্রকাশিত ৩১ অগাস্ট, ২০১৬ ১৬:০৭:১০

রাত ৩ টা।  শীতের সময়। কুয়াশায় চারিদিক অন্ধকার। দূরের কোন কিছুই দেখা যাচ্ছে না। নিজের হাতকেও দেখতে হলে। খুব কাছথেকে দেখতে হবে। তবে চতুর্থ দিক থেকে লাইটের কিছু আলো ভেসে আসছে। কোথাও কোন সাড়া শব্দ নেই। মনে হচ্ছে  ব্যস্তময়  এই শহর যেন একটু শান্তিতে।  পরম সুখে মায়ের কোলে ঘুমাচ্ছে। অথচ দিনের বেলায় এই জায়গাতেই  একটু পর পর লেগে থাকে  গাড়ীর  জাঁম। 
.
আমাদের গাড়ী সিলেট কীন ব্রিজের  সামনে এসে  থেমে গেল। আমরাও গাড়ী থেকে  থেকে নেমে গেলাম। এখন নিজেদের গন্তব্যের স্থলে যাবো।  কিন্তু অনেক রাত হয়ে গেছে। এখান  থেকেও  যাওয়ার জন্য গাড়ী পাওয়া সম্ভব নয়। তাই দু'জন মিলে হেঁটে চলেছি।  ব্রিজের কাছে আসতেই চোখ পড়ল দু'টি পথ আশ্রিত ছোট্ট শিশুর দিকে।  মূহুর্তেই থমকে গেলাম! এত রাত হয়ে গেছে। অথচ এখানে ওরা !
.
আমরা  তাদের কাছে গেলাম। একজন   শীতে কাতর হয়ে শুয়ে আছে ব্রিজের গেইটের উপর।  অন্য ছেলেটি পাশে বসে আছে।গেইটের উপর লাগানো রয়েছে বিভিন্ন ধরণে   রঙিন লাইট। যার আলোয় মুখগুলো স্পট দেখা যাচ্ছে না।   যতটুকু সম্ভব এক নজর মাথা থেকে পা পযর্ন্ত দেখে নিলাম।
.
এভাবে শুয়ে আছে দেখে খুব কষ্ট হল। তখন মনে হল। ইস!  এদের কি  দেখার মত কেউ নেই।   যার জন্য এখানে রাত্রিযাপন করছে। নাকি সবাই থাকার পরও তারা অবহেলিত?  এমন আরো কত প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ালো।  কিন্তু এগুলোর  কোন উত্তর খোঁজে পাচ্ছি না। সাথে সাথে মাথায় চিন্তা এল। এদের নিয়ে কিছু লিখতে হবে।  তাদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে।   বাড়িয়ে দিতে হবে আর্তমানবতার হাত।  কিন্তু তাদের কথা শুনে। আমার এই চিন্তা ভাবনাকে আরো দ্বিগুণ বাড়িয়ে দিল।
.
তাদের জিজ্ঞাস করলাম -  এই শীতের মধ্যে এভাবে তোমরা শুয়ে আছো কেন?  তোমাদের কি  কেউ নেই?  বাড়িতে গিয়ে ঘুমাও না কেন?
একজন বলল- কিতা করতাম ভাই। অনই থাকি। বাপ-মাও নাই। আর আমরারে দেখার মত কেউ নাই।  সারাদিন ব্রিজের উপর রিক্সা ঠেলা দিয়ে যা কামাই। তা দিয়ে দু'মুঠো ডাল-ভাত খেয়ে কোন রকম   বেঁচে আছি।  ভাইজান  একটা কথা কইতামনি। আমরার একটা ছবি তোলেন।আর তা পত্রিকায় দিয়েন। যেন সরকারের চোখে পড়ে। এটা দেখলে   হয়তো আমরার লাগি কিছু করতে পারে। আর আমরাও এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাবো।  একটু শান্তিতে থাকতে পারবো।
.
আমি বলল- ইনশাআল্লাহ, সাধ্য অনুযায়ী  তোমাদের জন্য কিছু   করার চেষ্টা করবো। এই বলে তাদের কাছ থেকে চলে এলাম।  আসার পথে বার বার পিছন ফিরে তাকাতে লাগলাম।  যতক্ষণ পযর্ন্ত দেখা যাচ্ছিল।  অপলক দৃষ্টিতে চেয়েই রইলাম। এক সময় দৃষ্টির আড়াঁলে চলে আসি। নিজ গন্তব্যের পথে ছুটে চলেছি।   হঠাৎ  করে মনের গভীর থেকে কে যেন উকি দিয়ে বলতে লাগলো।    তাদের জন্য কিছু একটা কর। তাদের পাশে এসে  দাড়াঁও।   সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দাও এই পথ আশ্রিত এবং অসহায়  শিশুদের প্রতি।
.
সেই কথাগুলো আজও হৃদয় মাঝে নাড়া দিয়ে যায়। এখন সময় এসেছে। কিছু বলার। কিছু লেখার। তাদের সেই করুণ সুরে বলা কথাগুলো মানুষের সামনে  তোলে ধরার।  যার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বহু দিন।   যে স্বপ্নকে মনের গভীরে লালন করে আসছিলাম।  আজ তা বাস্তবে সত্যি হল।
.
"হে প্রিয় পাঠক/পাঠিকা,
আপনারা যারা আমার এই ক্ষুদ্র লেখাটি পড়ছেন। তাদের সবার নিকট আবেদন।  আসুন আমরা নিজেদের সামর্থ অনুযায়ী।  প্রত্যেকে  সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেই তাদের প্রতি। যারা  ঐ দুটি অসহায় এবং পথ আশ্রিত শিশুর মত। এতে করে অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো হবে। আর আর্তমানবতার কাজও হবে।
.
বিশেষ করে ক্ষমতাসীন ব্যক্তিদের কে অনুরোধ করে  বলছি। আপনারা যারা  ক্ষমতার মসনদে বসে  বাড়ি-গাড়ী, টাকা-পয়সার অট্টালিকা গড়ে তুলছেন। আরাম- আয়েসে জীবন যাপন করছেন। আমার এই জন্মভুমি বাংলাদেশকে সোনার দেশ করার চিন্তা-চেতনা নিয়ে কাজ করছেন। জাতির সামনে বাংলাদেশ কে একটি ডিজিটাল দেশ হিসেবে উপহার দিতে চাচ্ছেন।  আপনারা কি একটি বারের জন্যেও  এদের কথা কখনো ভেবেছেন।  তাদের মত এমন আরো  হাজারো শিশু রয়েছে।  যারা জীবনের সাথে  লড়াই করে বেঁচে আছে। যে বয়সে লেখা-পড়া করার কথা। মা-বাবা, বড় ভাই-বোন, আত্বীয়স্বজনের স্নেহের ছায়াতলে থাকার কথা। কিন্তু আজ এই শিশুগুলোর স্থান হয়েছে ব্রিজের রাস্তার উপরে। যাদের  দিনের শেষে। একটু শান্তিতে  রাতে মাথা  রাখার মত জায়গা নেই।  নেই কোন অন্ন, বস্ত্র। তাই তাদের জন্য একটু ভাবুন। এবং তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করুন।
.
ইনশাআল্লাহ,  দেখবেন।  আমার এই দেশ। প্রিয় মাতৃভূমি  বাংলাদেশ। একদিন সোনার দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। যেখানে থাকবে না কোন অসহায় এবং দারিদ্রতার অভাব - অনঠন। পেটের ক্ষুধা নিবারনের জন্য কোন শিশুকে অন্য পথ অবলম্ভন করতে হবে না। পরিশেষে,  মাওলায়ে কারীমের পাক দরবারে এই ফরিয়াদ করি। তিনি যেন আমাদের সবাইকে মানবতার কল্যাণে কাজ করার। এবং মানুষ মানুষের জন্য তা বুঝার। আর সুখে দুঃখে একে অন্যের পাশে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করেন।(আমিন)
.
সাংবাদিক -মুস্তাকিম আল মুনতাজ


footer logo

 ঢাকা অফিস
GA-99/3  Pragati sharani
Gulshan Dhaka 1212
ই-মেইল:- info@bdnationalnews.com

.