বাংলাদেশ বুধবার 24, April 2019 - ১১, বৈশাখ, ১৪২৬ বাংলা - হিজরী

মুয়াজ্জিনী ছেড়ে জীবিকার তাগিদে রিক্সা চালান এমদাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:৪১:৩৬

জীবিকার তাগিদে মানুষ কত কাজই না করে। তাই বলে মুয়াজ্জিনের রিক্সা চালানো? মুয়াজ্জিন। সে তো মহান। সমাজের শ্রেষ্ট মানুষ। কেয়ামাতের দিন তার জন্য রয়েছে অনেক সম্মান। সবার উপরে তার স্থান। তিনি যখন জীবিকার তাগিদে ছেড়ে দেন এ মহান পেশা। তখন সমাজের জন্য বিষয়টি কতটা লজ্জা বয়ে আনে। কতটা না দুঃখজনক ব্যাপারটি। কতই না বেদনাদায়ক অধ্যায় সেটা। কিন্তু সব লজ্জাকে জলাঞ্জলি দিয়ে, সব বেদনাকে ছাড়িয়ে এমনি ঘটনা ঘটেছে শাহজালালের মাটি সিলেটে। সেদিনের বিকেল। রক্তিম আকাশে সূর্যটা মিলিয়ে যাচ্ছে। পশ্চিমাকাশে তার ক্লান্ত দেহ নিয়ে নীড়ে ফিরছে। এ সময় সিলেট নগরীর চৌহাট্রা মোড়ে দেখা গেলো এক মাথায় সুন্নাতি টুপি ও গায়ে সফেদ পাঞ্জাবি পরিহিত রিক্সা চালক। মুখে সুন্দর দাড়ি । বয়সে যুবক। এ টাইপের পোশাক পড়া রিকশা চালকের দেখা সচরাচর মেলে না। তাকে দেখে মনে হলো কোনো কওমী পড়ুয়া শিক্ষার্থী। কাছে গিয়ে তার সাথে কথা বলে জানা গেলো, তার নাম ইমদাদ। এক সময় সুনামগঞ্জের দরগাহপুর মাদ্রাসায় পড়তো। প্রাথমিক স্তর পেরিয়ে মাধ্যমিকে উঠার পর দরিদ্রতার কারনে লেখাপড়া ছাড়তে বাধ্য হয় ও। স্বপ্ন ছিলো আলেম হওয়ার। কিন্তু তা আর পূরণ হলো না। তাঁর গ্রামের বাড়ি দক্ষিন সুনামগঞ্জের মুরাদপুর।মুরাদপুর মসজিদে সে মুয়াজ্জিন পদে চাকরি করতেন। গেল দুবছর আগে সে বিয়ে করে। মুয়াজ্জিনী করে যে সম্মানী পায়, তা দ্বারা সংসার চলে না। তাছাড়া ঘাড়ের উপর ঋণের বোঝা। বাধ্য হয়ে সে রিক্সা নিয়ে রাস্তায় নামে। কথার ফাঁকে ইমদাদকে জিজ্ঞাসা করা হলো, "মুয়াজ্জিনীর মতো মহৎ পেশা ছেড়ে রিকশা চালাতে তোমার সংকোসবোধ হয় না?" সে বলল, "আল্লাহর ঘর মসজিদের খেদমত করছি, করার ইচ্ছে ও ছিলো,কিন্তু মুয়াজ্জিনী করে যে টাকা পাই তা দিয়ে কোনভাবেই দুবেলা খাওয়ার মতো ব্যবস্থা হয় না। দেয়ালে পিঠ লাগার কারণেই আমি এখন রিক্সা চালাই। না হয় সারা জীবন মসজিদের খেদমত করতাম"। আজকাল মুয়াজ্জিন পেশাকে ও অবহেলার চোখে দেখা হয়। মুয়াজ্জিনের বেতন ৩ হাজারের কাছাকাছি। কম ও আছে। এতটুকু সামান্য টাকায় সংসার চালানো বিরাট কষ্টের ব্যাপার। যারা।প্রতিদিন পাচঁ ওয়াক্ত আল্লাহর মহত্ব প্রচার করে, সমাজ তাঁদের মূল্যায়ন করছেনা। উপরন্তু অবহেলা আর অবমাননার শিকার হচ্ছেন দেশের মুয়াজ্জিন সমাজ। মুয়াজ্জিন পেশার ফজিলত আছে অনেক। কিন্তু ধার্মিক ও নীতিবান মানুষের কাছে নেই কেন? পরকালে মুয়াজ্জীনদের বিশেষ সম্মাননা দেয়া হবে। আমাদেরকে মুয়াজ্জিন পেশার সম্মান ও বেতন -ভাতার প্রতি যত্নবান হতে হবে। আজ একজন এমদাদ জীবিকা তাগিদে মুয়াজ্জিনী ছেড়ে রিকশা চালক হয়েছে। কাল হয়তো শতশত ইমদাদরা বাধ্য হয়ে মুয়াজ্জিনী পেশা ছেড়ে দিবে। পাচঁবেলা আল্লাহকে মাইকে ডাকার লোক কমে যাবে। মাস তিনেক হয়েছে ইমদাদ রিক্সা চালায়। সে দৈনিক ৩০০টাকার বেশি উপার্জন করে। এভাবেই সে হাড়ভাঙা কষ্টে হালাল উপার্জন করে জীবন যুদ্ধে টিকে আছে।


footer logo

 ঢাকা অফিস
GA-99/3  Pragati sharani
Gulshan Dhaka 1212
ই-মেইল:- info@bdnationalnews.com

.