ছবি ভিডিও

বাংলাদেশ রবিবার 17, December 2017 - ২, পৌষ, ১৪২৪ বাংলা

ঈদের পাঁচদিন পরও কাঁটেনি পর্যটকদের আমেজ

বিশেষ প্রতিনিধি: | প্রকাশিত ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:২৬:৫৬

সাংবাদিক,মোস্তফা ওয়াদুদ:

কয়দিন আগে হয়ে গেলো ঈদুল আযহা। মোস্ররসানদের ধর্মীয় উৎসব। কর্মব্যস্ত মানুসেরা পেয়েছেন লম্বা ছুটি। সরকারী ছুটিও ছিলো অনেক বেশী। টানা আটদিন। এতোদিনের অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে ভ্রমণপিপাসুরা ছুটে গেছেন পর্যটন এলাকায়। ঈদের পর কেটে গেছে প্রায় পাঁচদিন । এখনো ভ্রমণপিপাসিদের ভোমণ পিপাসা মিটেনি। তারাঘুরে বেড়াচ্ছেন দেশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে। কেউ যাচ্ছেন কক্সবাজার। কেউবা সিলেটের জাফলং।কেউ আবার ঘুরছেন মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত।কেউ আবার ঘুরছেন ছাতকের বাঁশতলায়। চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গল যাচ্ছেন অনেকে। প্রকৃতির রুপে সাজিয়ে নিচ্ছেন নিজেদের। চাইলে আপনিও ঘুরে আসতে পারেন। অবসর সময় কাজে লাগিয়ে দেখতে পারেন খোদার অপরুট সৃষ্টি।

নিচে ভ্রমণপিপাসি পর্যটকদের সুবিধার্থে

বাংলাদেশের সেরা পাঁচ পর্যটন কেন্দ্রের আদ্যোপ্যান্ত তুলে ধরা হলো।

 

ভ্রমণ। কিছু মানুষের কাছে শব্দটি খুব প্রিয়। অবসর পেলেই চলে যায় ভ্রমণে। খোদার অপরুপ সৃষ্টি দর্শনে। আল্লাহ তায়ালা অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছেন এ বিশ্বকে। বাংলাদেশ তারই অংশ। রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর স্থান। যা দেখে জুড়ে দর্শকদের প্রাণ। আজকের আয়োজনে থাকছে সেরা পাঁচ পর্যটন কেন্দ্র নিয়ে খুটিনাটি।

 

১. কক্সবাজার

ছুটিতে বেড়িয়ে আসার জন্য পৃথিবীর সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত  কক্সবাজারের তুলনা হয় না। সারি সারি ঝাউবন, বালুর নরম বিছানা, সামনে বিশাল সমুদ্র। কক্সবাজার গেলে সকাল-বিকাল

সমুদ্রতীরে বেড়াতে মন চাইবে। আর রয়েছে নীল জলরাশির গর্জন। মহেশখালী, কুতুবদিয়া,

সোনাদিয়া, শাহপরী, সেন্টমার্টিন কক্সবাজারকে করেছে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষণীয়। এ জেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়া ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুঁটকি, শামুক, ঝিনুক ও

সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান তাই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে

সবার শীর্ষে। এখানে গিয়ে বেড়াতে পারেন হিমছড়ি ও ইনানী বিচে। কক্সবাজারের ১২

থেকে ২২ কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যে রয়েছে

এ দুটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান। যারা ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজার যেতে চান তারা ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার অথবা

সরাসরি বাসে কক্সবাজারে যেতে পারেন। এসি ও নন এসি, ডিলাক্স ও সাধারণ বাস সরাসরি পরিবহনের ভাড়া পড়বে ৩৯০-৭৩০ টাকা পর্যন্ত। কক্সবাজারে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের বেশকটি হোটেল, মোটেল ও রিসোর্ট।

সর্বনিম্ন ৫০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ সাত হাজার টাকায় কক্সবাজারে রাতযাপন করা যায়।অন্যান্য হোটেল রেস্ট হাউসের ভাড়া প্রায়

নির্ধারিত। তবে কক্সবাজার ভ্রমণের আগে ফোনে যোগাযোগ করে বুকিংমানি পাঠিয়ে আবাসন  ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ভালো। এ ছাড়া

বেড়াতে পারেন সেন্টমার্টিন। আকাশের নীল আর সমুদ্রের নীল সেখানে মিলেমিশে একাকার। তীরে বাঁধা নৌকা, নান্দনিক নারিকেল গাছের সারি আর ঢেউয়ের ছন্দে মৃদু পবনের কোমল স্পর্শ- এটি বাংলাদেশের

সেন্টমার্টিন প্রবাল দ্বীপ। বাংলাদেশের  যে কোনো স্থান থেকে  সেন্টমার্টিন যাওয়ার জন্য

আপনাকে প্রথমে যেতে হবে কক্সবাজার। কক্সবাজার থেকে প্রথমে জিপে চড়ে টেকনাফ, টেকনাফ থেকে সি-ট্রাক, জাহাজ কিংবা  ট্রলারে চড়ে পৌঁছবেন সেন্টমার্টিন। সেখানে থাকার জন্য বেশ উন্নতমানের কয়েকটি হোটেল ও কটেজ রয়েছে। এ ছাড়া আরও আছে বিচ

ক্যাম্প।

 

২. শ্রীমঙ্গল

পাহাড় ও হাওরবেষ্টিত মৌলভীবাজার জেলার দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত এমনই একটি

উপজেলার নাম শ্রীমঙ্গল। এখানকার উঁচু-নিচু

পাহাড়ের বুকে রয়েছে সারি সারি সবুজ চায়ের বাগান। প্রকৃতি আর বাগানে কাজ করা চা

শ্রমিকদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে এক নান্দনিক

সৌন্দর্যে। মূলত চা শিল্পকেন্দ্রিক বিধায় এ শহরটিকে চায়ের রাজধানীও বলা হয়। এ ছাড়া

রয়েছে আদিবাসীদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি। ট্যুরিজমের জন্য শ্রীমঙ্গল হলো একটি চমৎকার

জায়গা। শরতের এই কালে বা আসছে শীতের কোনো একদিনে ঘুরে আসতে পারেন শ্রীমঙ্গল থেকে। ৪২৫ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার

আয়তনের জনপদ শ্রীমঙ্গলের সঙ্গে সারা দেশের রেল ও সড়কপথে রয়েছে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রতিদিন ঢাকা থেকে তিনটি, চট্টগ্রাম

থেকে দুটি আন্তঃনগর ট্রেনে করে শ্রীমঙ্গল

আসতে পারেন। এ ছাড়া দিনাজপুর, রংপুর, বগুড়া, পঞ্চগড়,  টাঙ্গাইল ও রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সরাসরি বাসে করে শ্রীমঙ্গল আসা যাবে। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থান থেকে ঢাকায় এসে সায়েদাবাদ বাস

টার্মিনাল থেকে  হানিফ বা শ্যামলী বাসে করে শ্রীমঙ্গল আসতে পারবেন। শহরে এসে অটোরিকশা, অটো সিএনজি, জিপ, প্রাইভেট কার বা মাইক্রো ভাড়া করে আপনি দর্শনীয় স্থানে

যেতে পারবেন। পর্যটকদের রাতযাপনের জন্য

এখানে বেশ কয়েকটি হোটেল, রিসোর্ট, রেস্ট হাউস, কটেজ রয়েছে। অত্যন্ত সুরক্ষিত ও নির্জন  পরিবেশে পাহাড়ি টিলার ওপর নির্মিত

টি-রিসোর্ট ও পাঁচতারকা মানের গ্র্যান্ড সুলতান টি-রিসোর্ট অ্যান্ড গলফের নজরকাড়া  সৌন্দর্য পর্যটকদের বিমোহিত করে তোলে। বিভিন্ন পাহাড়ি টিলার ওপর নির্মিত কটেজগুলোতে

রাতযাপন করে পর্যটকরা প্রকৃতিকে খুব কাছ থেকে অবলোকন করার সুযোগ পাবেন। শ্রীমঙ্গলে রয়েছে বেশ কয়েকটি রেস্টুরেন্ট। এখানে রয়েছে খাবারের আয়োজনও। তো একদিন ঘুরেই এ পর্যটন এলাকায়।

 

 

৩. মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত

বাংলাদেশের একমাত্র জলপ্রপাত মাধবকুণ্ড

জলপ্রপাত। এটি দেখতে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন অনেক লোকের

সমাগম ঘটে । প্রায় ২০০ ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে জলরাশি এর গা বেয়ে

অবিরাম ধারায় সাঁ সাঁ শব্দে নিচে পড়ছে। অবিরাম পতনের ফলে নিচে সৃষ্টি হয়েছে কুণ্ডের। আর কুণ্ডের প্রবাহমান স্রোতধারা শান্তির বারিধারার মতো মাধবছড়া দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মাধবকুণ্ডের নামকরণ সম্পর্কে কথিত আছে যে, শ্রীহাট্টের রাজা গঙ্গাধ্বজ

ওরফে গোবর্ধন পাথারিয়া পাহাড়ে একটি বিশ্রামাগার নির্মাণ শুরু করলে সেখানে ধ্যানমগ্ন অবস্থায় মাটির নিচে একজন সন্ন্যাসীকে

দেখতে পান। তখন তিনি ওই সন্ন্যাসীর পদবন্দনা ও স্তূতি করলে সন্ন্যাসী তাকে নানা

উপদেশসহ মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশ তিথিতে তাকে এ কুণ্ডে বিসর্জন দিতে নির্দেশ দেন। সন্ন্যাসী বিসর্জিত হওয়া মাত্র তিনবার মাধব, মাধব

মাধব নামে দৈববাণী হয়। সম্ভবত এ থেকেই মাধবকুণ্ড নামের উৎপত্তি। আবার কারও

কারও মতে, মহাদেব বা শিবের পূর্বনাম মাধব এবং এর নামানুসারে তার আবির্ভাব

স্থানের নাম মাধবকুণ্ড। এ কুণ্ডের পাশেই স্থাপন করা হয়েছে শিবমন্দির। যে পাহাড়টির গা বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে এ পাহাড়টি সম্পূর্ণ পাথরের। এর বৃহৎ অংশজুড়ে রয়েছে ছড়া। ছড়ার উপরের অংশের নাম গঙ্গামারা ছড়া আর নিচের অংশের নাম মাধবছড়া। পাহাড়ের উপর থেকে পাথরের ওপর দিয়ে ছুটে আসা পানির স্রোত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে হঠাৎ খাড়াভাবে উঁচু পাহাড় থেকে একেবারে নিচে পড়ে যায়। এতে দুটি ধারা সৃষ্টি হয়। একটি বড়, একটি ছোট। বর্ষাকালে ধারা দুটি মিশে যায়। জলরাশি যেখানে পড়ছে তার চতুর্দিকে পাহাড়, নিচে কুণ্ড। কুণ্ডের মধ্যভাগে অনবরত পানি পড়ছে। এই স্থান অনেক গভীর। কুণ্ডের ডান পাশে একটি পাথরের গহ্বর বা গুহার সৃষ্টি হয়েছে। ১৩৪২ সালে বিষ্ণুদাস সন্ন্যাসী

মাধবকুণ্ডের পশ্চিমাংশে কমলা বাগান তৈরি করেন, সেই কমলা বাগান আজও আছে। মূল জলপ্রপাতের বাম পাশে প্রায় ২০০ গজ দূরে আরও একটি  পরিকুণ্ড নামের জলপ্রপাতের

সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকেও অনবরত পানি পড়ছে। কিন্তু সেখানে খুব কষ্ট করে যেতে

হয়। যাতায়াতের সুবিধা করে দিলে সেটি দেখতেও অনেকেই  ভিড় করবে। ভূগোল এবং

দূরত্ব এটির অবস্হান ২৪° ৩৮’২১”N

৯২° ১৩’১৬E এবং প্রায় ২০০ ফুট (৬১ মিটার) উঁচু।

 এটা দাকশিনবাঘ রেল স্টেশন থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে, মৌলভীবাজার জেলা শহর

থেকে কুলাউড়া, জুরী, কাঁঠালতলী হয়ে ৭০

কিলোমিটার দূরে এবং ঢাকা শহর থেকে ৩৫০কিমি দূরে।

কিভাবে যাবেন?

সিলেট বা মৌলভীবাজার থেকে গাড়িতে যেতে পারেন অথবা কুলাউরা সংযোগস্থল থেকে ট্রেনে যেতে পারেন। যাত্রা পথে দেখতে পাবেন চা বাগানের অপরুপ সৌন্দর্য।

কোথায় থাকবেন?

 এখানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার সুবিধার্থে একটি রেস্টুরেন্ট, রেস্টহাউস ও বসার জন্য কিছু শেড নির্মাণ করে। শীতকালে এখানে শত শত পর্যটকের আগমন ঘটে। আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে এখানে পর্যটকের আগমন আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

(৪) প্রকৃতি কন্যা জাফলং

যদি কেউ এই অভিযোগ করে যে বাংলাদেশে দেখার মত স্থান নেই তবে তার এই অভিযোগের

জন্য তাকে শাস্তি দেয়া যায়না বরং তাকে জানিয়ে দেয়া যায় যে আমদের এই দেশটিতে দেখার মতো কী কী আছে। বিশ্বাস করুন যদি

আপনি  বাংলাদেশ ভ্রমনে বের হোন তবে বছরেও শেষ করতে পারবেন কিনা সন্দেহ

আছে। বাংলাদেশ প্রায় প্রতিটি স্থানেই ছড়িয়ে

ছিটিয়ে রয়েছে সৌন্দর্য়্যের সমাহার। তেমনই এক নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর বাংলাদেশের জাফলং স্থানটি।

 

"জাফলং" বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের সিলেট জেলার গোয়াইনঘাট উপজেলার অন্তর্গত, একটি এলাকা।জাফলং, সিলেট শহর থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে, ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষে খাসিয়া-জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত, এবং এখানে পাহাড় আর নদীর অপূর্ব সম্মিলন বলে এই এলাকা বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটনস্থল হিসেবে পরিচিত। প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি। পিয়াইন নদীর তীরে স্তরে

স্তরে বিছানো পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে আকর্ষণীয় ।সীমান্তের ওপারে ইনডিয়ান পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরামধারায়

প্রবাহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রীজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেলপানি,উঁচু পাহাড়ে গহিন অরণ্য ও। শুনশান নিরবতার কারণে

এলাকাটি পর্যটকদের দারুণভাবে মোহাবিষ্ট করে। এসব দৃশ্যপট দেখতে প্রতিদিনই দেশী-

বিদেশী পর্যটকরা ছুটে আসেন এখানে। প্রকৃতি কন্যা ছাড়াও  জাফলং বিউটি স্পট,  পিকনিকস্পট, সৌন্দর্যের রাণী- এসব নামেও

পর্যটকদের কাছে ব্যাপক পরিচিত। ভ্রমনপিয়াসীদের কাছে জাফলং এর আকর্ষণই

যেন আলাদা। সিলেট ভ্রমনে এসে জাফলং নাগেলে ভ্রমনই যেন অপূর্ণ থেকে যায়।জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রুপ

ভিন্ন। বর্ষায় জাফলং এর রুপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ। স্নিগ্ধ পরিবেশে শ্বাস-নি:শ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় তুলার মত মেঘরাজির বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোরধারায় বৃষ্টিপাহাড়ি পথ হয়ে উঠে বিপদ সংকুল-সে যেন এক ভিন্ন শিহরণ। সেই সঙ্গে কয়েক হাজারফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়। আবার শীতে অন্য রূপে হাজির

হয় জাফলং। চারিদেকে তখন সবুজের সমারোহ, পাহাড় চূড়ায় গহীন অরণ্য। ফলে শীত এবং বর্ষা সব সময়েই বেড়ানোর জন্য উপযুক্ত স্থান হতে পারে জাফলং। জাফলংয়ের বুক চিড়ে বয়ে গেছে দুই নদী। ধলাই ও পিয়াইন। এই নদী দুইটি অন্যন্যতা এনে দিয়েছে

জাফলংকে। ধলাই ও পিয়াইনের স্বচ্ছ জলে দল বেঁধে ঘুরে বেড়ায় নানা জাতের ছোট মাছ। দুই

নদীর পানির নিচ থেকে ডুব দিয়ে হাজার হাজার শ্রমিকের পাথর উত্তোলনের দৃশ্যও মুগ্ধ করে পর্যটকদের। নদীর পানিতে নারী-পুরুষের

এই ‘ডুবোখেলা’ দেখা যায় ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি। সীমান্তের ওপারে ডাউকি নদীর উপরে দুই পাহাড়ের মধ্যখানে ঝুলন্ত সেতু বাড়িয়ে

তুলেছে জাফলংয়ের সৌন্দর্য। পাহাড়, পানি, পান, পাথর, ঝর্ণা সবমিলিয়ে জাফলং যেনো এক রূপকথার রাজ্য। নাগরিক জঞ্জাল আর কোলাহল ছেড়ে দু’দণ্ড শান্তি খুঁজে নিতে তাই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে, এমনকি দেশের

বাইরে থেকেও দলবেঁধে জাফলংয়ে বেড়াতে আসেন পর্যটকরা। ভাড়া নৌকায় পিয়াইন ও ধলাইর বুকে ভেসে বেড়ান তারা। পাহাড় আর

নদীতে সীমাবদ্ধ নয় জাফলংয়ের সৌন্দর্য্য।

জাফলংয়ের সৌন্দর্য্যে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে সেখানকার আদিবাসীদের জীবনধারা। নদী পার হলেই খাসিয়াপুঞ্জি। খাসিয়াদের

গ্রামকে বলা হয় পুঞ্জি। এই পুঞ্জিগুলোতে গেলে দেখা যাবে ৩-৪ ফুট উঁচুতে বিশেষভাবে তৈরি খাসিয়াদের ঘর। প্রতিটি বাড়িতে সৃজিত পানবরজ। মাতৃতান্ত্রিক খাসিয়া সম্প্রদায়ের পুরুষরা গাছ বেয়ে বরজ থেকে পান পাতা

সংগ্রহ করেন। আর বাড়ির উঠোনে বসে নারী সদস্যরা পান পাতা ভাঁজ করে খাঁচা ভর্তি করেন বিক্রির জন্য। পান পাতা সংগ্রহ ও খাঁচা ভর্তি করার অভিনব দৃশ্য পর্যটকদের নজরকাড়ে।

পানবরজ ছাড়াও খাসিয়া  পল্লীতে দেখা যাবে কমলা বাগান। কাঁচা-পাকা কমলায় নুয়ে আছে বাগানের গাছ। সংগ্রামপুঞ্জির রাস্তা ধরে আরেকটু এগুলো দেখা যাবে দেশের প্রথম সমতল চা বাগান।

 

ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, হাজার বছর ধরে জাফলং ছিল খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন

নির্জন বনভূমি। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর খাসিয়া জৈন্তা রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের

বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত পড়ে রয়েছিল।ব্যবসায়ীরা পাথরের সন্ধানে নৌ পথে জাফলং আসতে শুরু করেন। পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় গড়ে উঠে নতুন জনবসতিও। আশির দশকে সিলেটের সাথে জাফলং এর

৫৫ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। দেশী-বিদেশী পর্যটকদের পাশাপাশি প্রকৃতি প্রেমীরাও ভিড় করতে থাকেন জাফলংয়ে। কয়েক যুগ ধরে জাফলং এলাকা দেশের ২য় বৃহত্তম পর্যটন নগরী হিসাবে দেশ ও বিদেশের ভ্রমন পিপাসুদের  কাছে যেমন পরিচিত তেমন সরকারী ভাবেও উল্লেখযোগ্য পর্যটন নগরী হিসাবে খ্যাত। প্রতি বছর ঈদ ছাড়াও প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলার পর্যটক ছাড়াও বিদেশী পর্যটকরাও প্রকৃতি কন্যা জাফলংকে এক নজর দেখতে জাফলং পর্যটন এরিয়া ঘুরে যান। এসব পর্যটকদের আদর আপ্যায়ন করতে গড়ে উঠেছে জাফলং এলাকায় ভিন্ন রকম ব্যবসা বানিজ্য। এতে রয়েছে আবাসিক-অনাবাসিক হোঠেল  রেস্তরাঁ, দেশী-বিদেশী কাপড়-চোপড়ের ব্যাপক পশরা এবং কসমেটিকসহ নানা রকম গিফট সামগ্রী।

 

যাবেন যেভাবে?

সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় জাফলং এর অবস্থান। সিলেটে থেকে বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজি অটোরিকশা বা লেগুনায়

যাওয়া যায় জাফলংয়ে। সিলেট শহরের যেকোনো অটোরিকশা বা মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড থেকে গাড়ি রিজার্ভ করে যাওয়া যাবে জাফলংয়ে। আর জাফলংমুখী বাস ছাড়ে

নগরীর শিবগঞ্জ থেকে। প্রতি এক ঘন্টা পরপর পাওয়া যাবে বাস।

থাকা খাওয়া :

জেলা পরিষদের বাংলো ছাড়া জাফলংয়ে থাকার তেমন ভালো ব্যবস্থা নেই। এক্ষেত্রে  পর্যটককে থাকতে হবে সিলেট শহরে। আর জাফলং যাওয়ার সময় খাবার সঙ্গে করে নিয়ে

গেলেই ভালো হয়। কেননা খাসিয়া আদিবাসী গ্রাম সংগ্রামপুঞ্জিতে একমাত্র ক্যাফে সংগ্রাম ছাড়া জাফলংয়ে নেই কোনো ভালোমানের খাবার রেস্টুরেন্ট। জাফলংয়ের জেলা পরিষদে থাকতে চাইলে সিলেট আসার আগে ফোনে

রিসোর্টটি বুকিং নিতে হবে। তবে সিলেটে শহরে থাকার সুব্যবস্থা রয়েছে। সকল মানের হোটেলই রয়েছে এখানে।

 

 

৫. কুয়াকাটা:

সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের জন্য বিখ্যাত কুয়াকাটা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের জন্য কুয়াকাটার

প্রতিদ্বন্দ্বী আর কেউ নেই। নৈসর্গিক সৌন্দর্য অপরূপ। প্রকৃতির উপহার দীর্ঘ সাগর সৈকত সত্যিই বিস্ময়কর। বিশ্বের আকর্ষণীয় সমুদ্র

সৈকতগুলোর মধ্যে কুয়াকাটা অন্যতম।

কুয়াকাটার এই মনোরম  সাগর সৈকতে গেলেই

সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের মতো বিরল, বর্ণিল

দৃশ্য সহজেই অবলোকন করা যায়। তাও একই

স্থানে দাঁড়িয়ে। রাজধানী ঢাকা থেকে সরাসরি বিলাসবহুল চেয়ারকোচসহ বিভিন্ন পরিবহন যোগে যেতে পারেন কুয়াকাটায়। সে ক্ষেত্রে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড অথবা সায়েদাবাদ

টার্মিনালে গিয়ে টিকিট নিয়ে সকাল-বিকাল-রাত যে কোনো সময় বাসে যাত্রার ৮ ঘণ্টায় পৌঁছানো যাবে। যেতে পারবেন নদীপথে ডবল ডেকার লঞ্চযোগে। ঢাকা থেকে লঞ্চ ছাড়ার

নির্দিষ্ট সময় প্রতিদিন বিকাল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। পৌঁছে যাবেন ১৪ ঘণ্টায়। সকালে

পটুয়াখালী জেলা শহরে পৌঁছে রিকশা, অটোরিকশায় চেপে বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীবাহী বাসে কুয়াকাটা দুই ঘণ্টায় পৌঁছে যাবেন। এ

ছাড়াও যেতে পারেন ভাড়ায়চালিত মিনিবাস,

মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল যোগে। ঢাকা থেকে যেতে পারেন ডবল ডেকার লঞ্চযোগে। রাত ৯টায় ঢাকা ছেড়ে বরিশাল পৌঁছে বাসযোগে কুয়াকাটায়। বিদেশি অতিথি পর্যটকরা যদি ইচ্ছা করেন তাহলে দেশ ও বিদেশের যে কোনো ভ্রমণপিপাসুরা হেলিকপ্টার যোগে ঢাকা থেকে ৪০ মিনিটে সরাসরি কুয়াকাটা হেলিপ্যাডে অবতরণ করতে পারেন। কুয়াকাটা পৌঁছে আপনি হেঁটেই আপনার বুকিং করা হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউসে উঠতে পারবেন। রয়েছে সরকারি পর্যটন হলিডে হোমস, সরকারি ভিআইপি ডাকবাংলো,

ব্যক্তিমালিকানাধীন হোটেল-মোটেল, গেস্ট ও রেস্ট হাউস। খাবার হোটেল রয়েছে কুয়াকাটায় পর্যাপ্ত। কম মূল্যে আপনি পরিবারসহ পছন্দসই তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া-দাওয়া করতে পারবেন।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন


এ সম্পর্কিত খবর

খাদিজার জীবন–সংকটে

খাদিজার জীবন–সংকটে

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম। অস্ত্রোপচার শেষে গতকাল বিকেলে তাঁকে ৭২ ঘণ্টার নিবিড়

আবারো জঙ্গি হামলার হুমকি

নিশ্চিহ্ন হয়েও কল্পিত অবস্থান জাহির করার ফন্দি

নিশ্চিহ্ন হয়েও কল্পিত অবস্থান জাহির করার ফন্দি

জঙ্গিরা নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছে। কল্যানপুর রুপনগর নারায়নগঞ্জ আজিমপুরসহ একের পর পুলিশের ড্রাস্টিক আ্যাকশনে জঙ্গি নেটওয়ার্ক

মায়ের পরকীয়ায় পিতা খুন; কন্যাদের সংবাদ সম্মেলন

মায়ের পরকীয়ায় পিতা খুন; কন্যাদের সংবাদ সম্মেলন

মায়ের পরকীয়া সম্পর্কের জের ধরে পিতা খুনের ঘটনায় সঠিক বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার মাগুরা


আ. লীগের শুদ্ধি অভিযান, সরিয়ে ফেলা হবে দুর্নীতিবাজদের

আ. লীগের শুদ্ধি অভিযান, সরিয়ে ফেলা হবে দুর্নীতিবাজদের

সম্মেলনের আগেই দলের শুদ্ধি অভিযান শেষ করবে আওয়ামী লীগ। মূলত দুর্নীতিগ্রস্থ নেতাদের চিহ্নিত করতেই এই

গণধর্ষণ করে শিশুর মরদেহ মাটি চাপা 

গণধর্ষণ করে শিশুর মরদেহ মাটি চাপা 

সিলেট: সিলেটে অপহরণের পর গণধর্ষণ করে হত্যার পর সুলতানা বেগম (১০) নামে একটি শিশুর

৯০ বছরের বৃদ্ধের প্রশ্ন? আর কত বয়স হলে তারা বয়স্ক ভাতার কার্ড দেবে

৯০ বছরের বৃদ্ধের প্রশ্ন? আর কত বয়স হলে তারা বয়স্ক ভাতার কার্ড দেবে

হাফিজুল ইসলাম লস্কর::সিলেটের জকিগঞ্জ থানার কসকনকপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুনীল বিশ্বাস (৯০)। অতি দরিদ্র-দিন


ছাতক উপজেলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র পেঠানোর অভিযোগ

ছাতক উপজেলায় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্র পেঠানোর অভিযোগ

ছাতকে একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বেত্রাঘাতের নামে শিক্ষার্থীদের

পাওনা টাকার জেরে সংঘর্ষ - নিহত প্রবাসী আটক ৬

পাওনা টাকার জেরে  সংঘর্ষ - নিহত প্রবাসী আটক ৬

কুমিল্লার প্রতিনিধি।। রোববার রাতে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের পাচোড়া গ্রামে বিদেশি টাকা নিয়ে বিরোধের

নিরপেক্ষ ইসি গঠনের পর নির্বাচন চায় বিএনপি

নিরপেক্ষ ইসি গঠনের পর নির্বাচন চায় বিএনপি

মধ্যবর্তী নির্বাচন নয়, নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পর জাতীয় নির্বাচন চায় বিএনপি।



আরো সংবাদ

সিলেটি ছেলের চমৎকার গান

সিলেটি ছেলের চমৎকার গান

০৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:৪৪


ঈদ আয়োজনে মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা

ঈদ আয়োজনে মুগ্ধ দর্শক-শ্রোতা

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:২৬



রোমান্সে ঐশ্বরিয়া-রণবীর [ভিডিও]

রোমান্সে ঐশ্বরিয়া-রণবীর [ভিডিও]

৩১ অগাস্ট, ২০১৬ ১৬:৪০


তপুর সঙ্গে সাগর বাউল

তপুর সঙ্গে সাগর বাউল

৩০ অগাস্ট, ২০১৬ ১৮:৪৬




একজন প্রেমিকাকে লিখেছেন 

একজন প্রেমিকাকে লিখেছেন 

০২ অগাস্ট, ২০১৬ ১৩:০৯


ব্রেকিং নিউজ












খাদিজার জীবন নিয়ে এখনো আশঙ্কা

খাদিজার জীবন নিয়ে এখনো আশঙ্কা

০৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:৫৪