বাংলাদেশ বৃহস্পতিবার 23, May 2019 - ৯, জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বাংলা - হিজরী

ছাতক উপজেলায় গরু চুরির কবলে অতিষ্ট ঝিগলীবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৫৩:১৭

ছাতক প্রতিনিধি:
ছাতক উপজেলার ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী গ্রাম ঝিগলী। শান্ত-ভদ্র গ্রাম হিসাবেই এলাকায় সমাদৃত। তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, একটি প্রথমিক, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ রয়েছে এ গ্রামে। আছে অনেক সুনাম।আছেন অনেক জ্ঞানী-গুণী বিজ্ঞ ও সম্মানিত ব্যক্তি।

কিন্ত গুটিকয়েক লোকের কারণে গ্রামের সুনামক্ষূন্ন হচ্ছে। মান হারাচ্ছে গ্রামটি। এ গ্রামের একটি ঐতিহ্য আছে। বহু প্রাচীণ এ ঐতিহ্য আজ ধুলোয় মিশে যাচ্ছে কিছু কুচক্রির কারণে।  আর তারা হচ্ছে গরু চোরচক্র। ওদের চুরির কারণে অতিষ্ট ও লজ্জিত বৃহত্তর ঝিগলীবাসী।

অহরহ গরু চুরির ঘটনা ঘটেই চলছে। দিন দিন বেড়েই চলছে গরু চুরি। কোনভাবেই রেহাই মিলছে না ওদের দুষ্ট কবল থেকে বৃহত্তর ঝিগলীর কোন মহল্লাই।

ঈদুল আযহার পূর্বে দুটি গরু চুরি হয় হাজি ইব্রাহিম আহমদ এর বাড়ীথেকে, যার বাজার মূল্য ছিল প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। দালাল লাগিয়ে বহু দেন-দরবার করে চড়া মুল্য হাকিয়ে তিনি গরু এনেছিলেন। গত ২০-০৯-১৬ ইংরেজি তারিখ রাতে ঝিগলী সুলেমানপুরের জনাব মজুমদার আলীর ও চারটি গরু চুরি হয় । আজ সন্ধান মিলেনি।

গত রাত ২৬-০৯-১৬ ইংরেজী রোজ সোমবার বাদে ঝিগলীর আব্দুস সত্তার সাহেবের প্রায় দেড় লক্ষ টাকা মুল্যের দুটি গরু চুরি হয়।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে জানা গেছে, গরুচোর চক্র এলাকায় বেশ পরিচিত। এরা বৃহত্তর ঝিগলী ও কুর্সীর অধিবাসী। তবে তাদের হেডকোয়াটার যথারীতি কুর্সীতেই জানা গেছে ।  এলাকায় রয়েছে তাদের বেশ প্রভাব। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের ব্যাপারে মুখ খুলতে চাননা। এমনকি তাদের ব্যাপারে দিতে চাননা কোনো সংবাদ। সাহস পাননা কিছু বলতে। এলাকার মানুষকে একরকম জিম্মি করে রেখেছে তারা। সাধারণ মানুষ নিরবে সয়ে যান। নিজেদের গরু চুরি হলে টাকা দিয়ে ছুটিয়ে আনেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভুগি বলেন, আমার গরু চুরি হয়েছিলো। ৩৮ হাজার টাকা দিয়ে গরু নিয়ে এসেছি। গরুচোর চক্রদের কাছে টাকা জমা দিলে তারা আমার গরু ফিরিয়ে দেন।

আরো একজন ভুক্তভুগি সাংবাদিকদের নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, গরু চুরি হয়েছিল আমারও। গরু ছুটিয়ে আনতে লেগেছিলো ২০ হাজার টাকা। এরকম আরো অনেক ভুক্তভোগী রয়েছেন এলাকায়। তারা কেউ নিজের নামটুকু পর্যন্ত প্রকাশ করার সাহস পাননি। গরুচোরদের ভয়ে কম্পমান এলাকাবাসী। জনসাধারণ অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন তাদের কার্যক্রমে। কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না এসব চুরি।

ঝিগলী এলাকার মানুষ মুক্তি চায় এসব গরুচোর চক্রের হাত থেকে। গরুচোর চক্রের ব্যাপারে জানতে চেয়েছিলাম স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ঝিগলী এলাকার মেম্বার জনাব শাবাজ মিয়া সাহেবের কাছে। তিনি সাংবাদিকের ফোন আলাপে বলেছেন,  "আমরা এলাকার এসব কুচক্রি কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতন আছি। আমরা আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে ছাতক থানার ওসি বরাবর বিষয়টি জানিয়েছি। তবে এখনো তারা কোনো পদক্ষেপ নেননি। যার ফলে এখনো চুরি বন্ধ হয়নি।

এদিকে ভাতগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব আওলাদ হোসেন মাস্টারকে ফোনে কথা বলা হলে তিনি টাইম টিউনকে জানান, আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি জানতাম না। আমার ইউপি মেম্বার বলার পর বিষয়টি নিয়ে থানায় তথ্য দেই। তারা আমাদেরকে খুব শীঘ্রই ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন।

মেম্বার ও চেয়ারম্যান সাহেবের কথায় টাইম টিউন যোগাযোগ করেন জাউয়া বাজার পুলিশ ফাড়ির এস আই কামরুল হাসান সাহেবের সাথে। তিনি জানিয়েছেন, ঝিগলী গ্রামের প্রতি আমাদের সু ধারণা রয়েছে দীর্ঘদিন থেকে সেখানে এমন বিষয় হচ্ছে তা আমার জানা নেই। তাছাড়া মেম্বার, চেয়ারম্যান যে তাকে জানিয়েছেন এ বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন।

টাইম টিউনের পক্ষথেকে বিষয়টি নিশ্চিত হতে গতকাল কথা বলা হয়, ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন সাহেবের সাথে। তিনিও কামরুল হাসানের মতো বিষয়টি জানেন না বলে অস্বীকার করেন।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধী ও প্রশাসনের কাছে ঝিগলীবাসীর প্রত্যাশা , তারা যদি স্বীকার আর অস্বীকারের বেড়াজালে আবদ্ধ না হয়ে নিজেদের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব মনে করে যৌথ উদ্যোগে এ গরু চুরচক্রের বিরুদ্ধে যথাযত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাহলে আমরা ঝিগলীবাসী এ অশুভ গরুচোরদের থেকে মুক্তি পাবো।  তারা আশা করেন অতি দ্রুত এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধী ও প্রশাসন।


footer logo

 ঢাকা অফিস
GA-99/3  Pragati sharani
Gulshan Dhaka 1212
ই-মেইল:- info@bdnationalnews.com

.