বাংলাদেশ বুধবার 18, July 2018 - ২, শ্রাবণ, ১৪২৫ বাংলা - হিজরী

হাসপাতাল থেকে থানায় নেয়া হয়েছে বদরুলকে,উত্তপ্ত সিলেট

নিজস্ব প্রতিবেদক: | প্রকাশিত ০৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:০৪:৪৪

সিলেটের কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের উপর হামলাকারী বদরুলকে চিকিৎসা শেষে শাহ পরান থানায় নেয়া হয়েছে। এর আগে বদরুলকে গণধোলাই দেয় শিক্ষার্থীরা। এরপর তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে পুলিশের প্রহরায় তার চিকিৎসা চলছিলো।
এ ঘটনায় খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে সিলেটের শাহপরান থানায় মামলা করেছেন। এছাড়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গতকাল সন্ধ্যায় একাডেমিক বৈঠকের কাউন্সিলের সিদ্বান্ত নিয়ে হামলাকারী ছাত্র বদরুল আলমদে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বহিস্কার করেছে। এ ঘটনায় তারা ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে।
হামলার ঘটনার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে সিলেটে। গতকাল সকাল থেকে সিলেটের এমসি ও সরকারী মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা দুটি স্থানে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এদিকে, খাদিজার উপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে আজ বুধবার থেকে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের ঘোষনা দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। তারা বলেছেন, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
সকাল হতেই খাদিজার উপর হামলার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে সিলেট। সকাল ১০ টায় একে একে শিক্ষার্থীরা সিলেট সরকারী মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে এসে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শিক্ষকরাও হন তাদের সঙ্গে যুক্ত। বেলা ১১ টায় তারা কলেজের মুল ফটকের বাইরের রাস্তায় মানবন্ধন শুরু করেন। হাতে হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে হামলাকারীর শাস্তির দাবিতে তারা মানবন্ধন শুরু করেন। মানববন্ধনে উপস্থিত অনেক ছাত্রীই এসময় কেদে কেদে রাস্তায় বসে পড়েন। এরপর শুরু হয় সড়ক অবরোধ। কয়েকশ ছাত্রী আম্বরখানা-বন্দরবাজার সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে করে ওই এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা জানায়, হামলাকারীর শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কলেজের প্রিন্সিপাল প্রফেসর ড. নুরুল ইসলাম, সহযোগি অধ্যাপক মছব্বির চৌধুরী ও মানিক কুমার সাহা। প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ, বিক্ষোভ চলার পর ১২ টার দিকে প্রিন্সিপাল সহ শিক্ষকরা ছাত্রীদের ক্যাম্পাসে ফিরিয়ে নেন। এদিকে, ক্যাম্পাসে ফিরে শিক্ষার্থীরা ৩ দফা দাবি তুলে ধরে আলটিমেটাম দিয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে, খাদিজার উপর হামলার ঘটনার দ্রুত বিচার করা, হামলাকারীর শাস্তি নিশ্চিত করা, আর কোনো শিক্ষার্থীর উপর যাতে হামলা না হয় সে ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। এ সময় তারা ঘোষনা দেয়, আজ বুধবার থেকে সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের সকল শিক্ষার্থী ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করবে। এ সময় তারা শিক্ষকদেরও কর্মসূচিতে শরীক হওয়ার আহবান জানায়। পাশাপাশি কালোব্যাজ ধারন, বিক্ষোভ কর্মসূচি সহ তিনি দিনের কর্মসূচি ঘোষনা হয়েছে। তারা বলেছেন, তাদের দাবি পুরন না হলে সিলেটের সকল শিক্ষা প্রতিষ্টানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তারা আন্দোলনে নামবেন। সিলেট সরকারী মহিলা কলেজের সামনে যখন বিক্ষোভ চলছিল তখন এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয় সিলেট-তামাবিল সড়কে। তারা ওই সড়ক অবরোধকালে ৫-৬ টি যানবাহনের গ্লাস ভাংচুর করে। ফুলে এমসির ফটকে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এমসির শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, খাদিজার উপর হামলা চলাকালে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন ছিল। কিন্তু ঘটনার ১০ মিনিট পর পুলিশ সেখানে যায়। আরও আগে পুলিশ সেখানে গেলে হয়তো খাদিজার উপর এতো অত্যাচার চালাতে পারতো না বদরুল। দুপুর ১২ টার দিকে এমসি কলেজের শিক্ষার্থীরাও ক্যাম্পাসে ফিরে যায়। মামলায়
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিন অংশের উপ-পুলিশ কমিশনার বাসুদেব বনিক জানিয়েছেন, মর্মান্তিক এ ঘটনায় যাতে অপরাধীর সাজা হয় সে ব্যাপারে পুলিশ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করবে। ইতিমধ্যে পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে দিয়েছে বলে জানান তিনি। বলেন, এ ঘটনায় সবাই মর্মামত। তবে, আশার কথা হলো ছাত্রদের সহায়তায় পুলিশ হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ওদিকে, রাতে মহানগর পুলিশের দক্ষিনের অতিরিক্ত উপ কমিশনার জেদান আল মুছা হাসপাতাল এলাকায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় খাদিজার উপর হামলা করা হয়েছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে তারা জেনেছেন। তবে, তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা খুজে বের করা হবে। এদিকে, হামলাকারী বদরুল শাবি ছাত্রলীগের কেউ নয় বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক ছাত্রলীগ নেতা। তারা বলেন, কমিটিতে তার নাম এলেও আগেই তার পদবি স্থগিত করা হয়েছে।


footer logo

 ঢাকা অফিস
GA-99/3  Pragati sharani
Gulshan Dhaka 1212
ই-মেইল:- info@bdnationalnews.com

.